আগামী এক দশকের মধ্যে বিশ্বজুড়ে বেশির ভাগ প্রাইভেট ক্যাপিটাল কোম্পানি নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়বে, এমন আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন সুইডেনভিত্তিক বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান ইকিউটির প্রধান নির্বাহী পের ফ্রানসেন। এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘এসব প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৮০ শতাংশই নতুন তহবিল গঠনে ব্যর্থ হবে এবং শুধু পুরনো বিনিয়োগ পরিচালনা করে কোনোমতে টিকে থাকবে।’ খবর এফটি।
প্রাইভেট ক্যাপিটাল কোম্পানি এমন এক বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান, যা বাজারে তালিকাভুক্ত নয় এমন কোম্পানিতে বিনিয়োগ করে বা মালিকানার অংশীদার হয়। ব্যাংক, ধনী ব্যক্তি, পেনশন ফান্ড, বীমা কোম্পানি বা প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা এতে লগ্নি করে থাকে। সাধারণত ৫-১০ বছর মেয়াদে কোনো কোম্পানিকে অর্থ দেয় প্রাইভেট ক্যাপিটাল কোম্পানি। এর সঙ্গে ব্যবস্থাপনায়ও অংশ নেয় তারা। এ ধরনের বিনিয়োগে বড় ধরনের ঝুঁকি থাকে।
বিশ্বে বর্তমানে প্রায় ১৫ হাজার প্রাইভেট ক্যাপিটাল কোম্পানি রয়েছে। এর মধ্যে গত সাত বছরে এক-তৃতীয়াংশ অর্থাৎ পাঁচ হাজার প্রতিষ্ঠান নতুন তহবিল গঠন করতে পেরেছে। আগামী পাঁচ-দশ বছরে এর অর্ধেক কোম্পানিও সফল হবে না বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ফলে কয়েক হাজার কোম্পানি ‘জম্বি ফার্ম’ বা নিষ্ক্রিয় বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠানে পরিণত হতে পারে।
গত কয়েক বছর প্রাইভেট ইকুইটি কোম্পানিগুলো নতুন তহবিল তুলতে হিমশিম খাচ্ছে। তারা পুরনো বিনিয়োগকারীদের মুনাফা দিতে পারছে না। একই সঙ্গে নতুন চুক্তি বা অধিগ্রহণও প্রায় বন্ধ। ফলে অনেক প্রতিষ্ঠান এখন পুরনো তহবিল থেকেই ফি আদায়ের চেষ্টা করছে। এছাড়া কন্টিনিউশন ভেহিকল বা বিদ্যমান সম্পদ নিজেদের কাছে বিক্রির মাধ্যমে নতুন ফি তোলার পথ খুঁজছে।
ইকিউটির প্রধান বলেন, ‘বিদ্যমান তহবিল থেকে জোর করে ফি আদায় বা সুযোগ বুঝে কন্টিনিউশন ভেহিকল গঠন টেকসই ব্যবসায়িক মডেল নয়। এতে দক্ষ পেশাদারদের ধরে রাখা বা আকৃষ্ট করা সম্ভব নয়। শেষ পর্যন্ত এসব প্রতিষ্ঠান টিকে থাকতে পারবে না।’
পের ফ্রানসেনের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী তহবিল সংগ্রহ পর্বে বিশ্বজুড়ে ৫০-১০০টি বড় বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান পুরো বাজারের প্রায় ৯০ শতাংশ মূলধন নিয়ন্ত্রণ করবে।
ডাটা পরিষেবাদাতা প্রতিষ্ঠান প্রিকুইনের হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত যেসব প্রাইভেট ইকুইটি তহবিল চূড়ান্তভাবে বন্ধ হয়েছে, তার সংখ্যা গত নয় বছরের মধ্যে সবচেয়ে কম।
অন্যদিকে প্রাইভেট ক্যাপিটাল গ্রুপ সিভিসির প্রধান নির্বাহী রব লুকাস বলেন, ‘তহবিল সংগ্রহে কঠিন সময় গেলেও প্রাইভেট ক্যাপিটালের সামগ্রিক চাহিদা আগামী এক বা দুই দশকে বিশাল আকার ধারণ করবে। এসব প্রতিষ্ঠান এখন মার্কিন পেনশন তহবিল ও ধনীদের দিকে নজর দিচ্ছে। সেখানে নতুনভাবে বিনিয়োগের বড় সুযোগ তৈরি হচ্ছে।’